In The Class (শ্রেণিকক্ষে)

জীবদেহ গঠনের পদার্থসমূহ

(Building block materials of living organisms)

জীবের প্রতিনিয়ত কার্যধারা চলেছে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদ্ধতি পরিচালনার মধ্য দিয়ে। বিস্ময়ের অন্ত থাকে না যখন দেখি একই রকম অণু বিরাজ করছে ক্ষুদ্র এককোশী জীব থেকে বৃহৎ প্রাণী নীল তিমি এমনকি সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব মানুষ পর্যন্ত! নিউক্লিক অ্যাসিড সমস্ত জীবের বংশগতির সংবাদ এক জনু থেকে অপর জনুতে বয়ে নিয়ে চলেছে। আর এরই সামান্য পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এসেছে নানা ধরনের জীব, পৃথিবীকে করে তুলেছে জীব বৈচিত্র্যময়!

প্রোটিনের কয়েকপ্রকার যোগ দেয় রাসায়নিক পদ্ধতি পরিচালনায়। শর্করা ও লিপিডকে কিছুদিন আগে পর্যন্ত মূলত শক্তি সরবরাহকারী উপাদান বলে মনে করা হত। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় জানা গেছে এরা দুজনেই জীবদেহে অন্য বস্তু শনাক্তকরণে ও পরিবহণে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

 

পলিমারের গঠন ও ভাঙ্গন:

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড বেশ লম্বা সুতোর মত গঠনযুক্ত হয়। এই গঠনকে পলিমার (গ্রীক Poly= বহু, meris = অংশ) বলে। বিভিন্ন ধরনের পলিমার প্রকৃতিতে পাওয়া গেলেও তাদের গঠন ও ভাঙ্গন পদ্ধতি কিন্তু একই রকমের। দুটি মোনোমার একত্রে সমযোজী বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে পলিমার গঠন করে এবং এই প্রক্রিয়ায় এক অণু জল ছেড়ে দেয় অর্থাৎ এটি একটি জল বিয়োজন বিক্রিয়া (Dehydration reaction), এই পদ্ধতিটি উৎসেচকের দ্বারা ত্বরান্বিত হয়।

পলিমারগুলো আবার বিয়োজিত হয়ে মোনোমার গঠন করে এবং এই পদ্ধতিকে হাইড্রোলিসিস (Hydrolysis) বলে কারণ এই পদ্ধতিতে যে ভাঙ্গন প্রক্রিয়া ঘটে তাতে জলকে যুক্ত করতে হয় (গ্রীক Hydro = জল, Lysis = ভাঙ্গন) । এই পদ্ধতিটি উৎসেচক নিয়ন্ত্রিত । যে সমযোজী বন্ধনীর (Covalent bond) সাহায্যে দুটি একশর্করা বা মোনোস্যাকারাইড যুক্ত হয় তাকে গ্লাইকোসাইডিক এবং দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হয় তাকে পেপটাইড বন্ধনী বলে।

 

Ramakrishna Mission Vivekananda University
Belur Math, Howrah, India
No part of the site should be reproduced in any form or by any means, electronically or otherwise, without prior written permission.
Powered by Softsignindia