বিবেকদিশা : আমাদের কথা

PAGE AT A GLANCE (পৃষ্ঠা একনজরে)  
1) প্রেরণা : স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিভঙ্গী 5) অনলাইন কার্যাবলী (Online Activities)
2) বিবেকদিশা : একটি তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তি-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক 6) অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা (Online Education)
3) বিবেকদিশা নেটওয়ার্ক (Vivekdisha Network) 7) অনলাইন ক্লাসে মূলত যা হয়
4) বিবেকদিশার কার্যক্রম (Vivekdisha Programmes) 8) অনলাইন ক্লাসের বৈশিষ্ট্য সমূহ

 

বিবেকদিশা

(তথ্য সংযোগ প্রযুক্তি-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক)

প্রেরণা : স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিভঙ্গী

স্বামী বিবেকানন্দ অনুভব করতেন যে, নব ভারত গড়ে উঠবে প্রাচ্যের ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্যের উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্মিলনে, আর নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে এবং অদম্য উ‌ৎসাহে ভরপুর একদল যুবক-যুবতী তা বাস্তবায়িত করবে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সারবস্তুকে একত্রিত করে গ্রাম এবং শহরের মানুষের কি ভাবে উন্নয়ন ঘটানো যায় সে ব্যাপারে স্বামীজীর একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা ছিল। তিনি আধুনিক বিশ্বের কাছে কর্ম বিষয়ক এক নতুন দর্শনকে তুলে ধরেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর গুরুদেব শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষাটি লাভ করেছিলেন, তা হল ‘শিবজ্ঞানে জীব সেবা’ অর্থা‌ৎ মানুষই ঈশ্বরের মূর্ত বিগ্রহ তাই মানুষের সেবার মাধ্যমেই ঈশ্বরের সেবা করা যায়।

বিবেকদিশা : একটি তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তি-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক

বিবেকদিশা হল রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা পরিচালিত তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তি-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক (Information and Communication Technology- based Network)। এখানে একই সঙ্গে মাধ্যমিক স্তর থেকে স্নাতকস্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান কর্মসূচী, অনলাইন ও সাক্ষা‌ৎকার ভিত্তিক (Face to Face) শিক্ষক-শিক্ষণ কর্মশালা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে Book Bank গড়ে তোলা, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশের শিক্ষা, টেলিমেডিসিন পরিষেবা এবং বিভিন্ন গবেষণা মূলক কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে।  

বিবেকদিশা নেটওয়ার্ক (Vivekdisha Network)

বর্তমানে (2016) পশ্চিমবঙ্গে বিবেকদিশার একুশটি (21) কেন্দ্র আছে। প্রায় 10200 জনেরও বেশি শিক্ষার্থী সেপ্টেম্বর 2016 সালের হিসাব অনুযায়ী এখানকার অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত রয়েছে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত 25টি কেন্দ্রকে বিবেকদিশা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে এক সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ একক বা দলবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন ক্লাসে যোগদান করেন।

বিবেকদিশার কার্যক্রম (Vivekdisha Programmes)

  1. অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতকস্তর পর্যন্ত পাঠদান কর্মসূচী।

         বিষয়ঃ পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, জীবন বিজ্ঞান, ব্যবহারিক ইংরাজী ভাষা  

         শিক্ষা ও মূল্যবোধ শিক্ষা।

  1. অফলাইন ব্যবস্থায় ব্যবহারিক ইংরাজী ভাষা শিক্ষা, ইতিহাস, ভূগোল ও মূল্যবোধের শিক্ষা বিষয়ক পাঠদান কর্মসূচী।
  2. টেলিমেডিসিন পরিষেবা।
  3. শিক্ষাতত্ত্ব এবং অন্যান্য বিষয়ে গবেষণা।
  4. আন্তর্জাতিক স্তরে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য প্রচারও প্রসার।
  5. শিক্ষক-শিক্ষণ।
  6. বিভিন্ন বিবেকদিশা কেন্দ্রগুলোতে গ্রন্থনীড় বা Book Bank গঠন।

অনলাইন কার্যাবলী (Online Activities)

বিবেকদিশার প্রাত্যহিক অনলাইন ক্লাস তথা অন্যান্য কর্মসূচী অত্যন্ত নিয়মিত ভাবে বেলুড়মঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। বিবেকদিশার বহুমুখী কর্মধারার, বিভিন্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত সম্প্রচার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভুতপূর্ব উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে এবং সাধারণ মানুষকে সার্বিক বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করছে।

অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা (Online Education)

তথ্য ও সংযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগে অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদান ব্যবস্থাই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা। আধুনিক পৃথিবীতে ক্রম উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষাবি্‌দগণের কাছ থেকে একযোগে অন্যান্য বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীরা, অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে বহুলাংশে উপকৃত হতে পারে। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায় মাল্টিপল ভিডিও কনফারেন্সিং এর সাহায্যে আধুনিক বর্ণময় শিক্ষা উপকরণের উপযুক্ত ব্যবহার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীকে বিষয়ের গভীরে সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষা সম্পর্কে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গী, নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে যার মাধ্যমে ভৌগলিক বাধাকে অতিক্রম করে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজে সব বয়সের মানুষ আনন্দের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন।

তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তি নির্ভর শিখন, প্রথাগত শ্রেণী শিখনের চেয়ে বহুলাংশে বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই পদ্ধতির শিখনে শিক্ষার্থীর প্রজ্ঞার সদ্‌ব্যবহার পূর্ণ মাত্রায় ঘটে। তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষণ-শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার উভয়ের উ‌ৎসাহ সমগ্র শিখন কর্মসূচী বা লেখাপড়াকে গতিশীল করেছে, আলোচনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে, সর্বোপরি উন্নতমানের সৃষ্টিশীল শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ প্রস্তুতিতে শিক্ষকের উ‌ৎসাহ, আগ্রহ ও সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনলাইন ক্লাসে মূলত যা হয়

কম্পিউটার সফ্টওয়্যার (software) এবং ডিজিটাল নোটপ্যাড ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনের সাহায্যে একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা পাঠদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলকেন্দ্র বা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এই পাঠদান একই সময়ে বিবেকদিশার সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে সম্প্রচারিত হতে থাকে। এই সব কেন্দ্রগুলিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সমগ্র উপস্থাপনাটি দেখতে ও শুনতে পায় এবং শিক্ষক বা শিক্ষিকার সাথে সরাসরি মত বিনিময় করতে পারে। শিক্ষক বা শিক্ষিকা পৃথিবীর যে কোনো স্থানে উপস্থিত থেকে বিষয় উপস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা ও কথা বলার কাজটি (Audio Video interaction with multimedia presentation) করতে পারেন। তিনি তাঁর কম্পিউটারের ডেস্কটপ শেয়ার (Desktop Share) -এর মাধ্যমে এক যোগে সকল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর পাঠ্য বিষয়কে উপস্থাপিত করতে পারেন। ফলে যে কোন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেনটেশন (Power point presentation), প্রয়োজন ভিত্তিক ডিজিটাল নোটপ্যাডে লেখা,  পরীক্ষাগারে করা পরীক্ষা–নিরীক্ষার ভিডিও, অথবা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ঘটনার ছবি বা ভিডিও, তিনি বিষয়ানুগ করে তা উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে বিষয়ের গভীরে নিয়ে যেতে পারেন। তাই এই মাল্টিপল ভিডিও কনফারেন্সিং (Multiple Video Conferencing) ব্যবস্থা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর কাছে এক সীমাহীন শ্রেণি-কক্ষের ন্যায় যা বিশ্বজনীনতার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ভৌগলিক দিক থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলিকে বিবেকদিশা এইভাবে একই সঙ্গে পাঠদানের জন্য সংযুক্ত করতে পেরেছে।

মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা অর্থা‌ৎ বিষয়বস্তুকে প্রাঞ্জলরূপে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী, উপযুক্ত ভাষ্য ও ছবি সহ উপস্থাপিত করা হয়। এক্ষেত্রে পাঠ্যবিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন পরীক্ষাগার ও অপারেশন থিয়েটরে তোলা বিভিন্ন স্থির ও চলচিত্রের উপযুক্ত ব্যবহার পাঠ্য বিষয়ের একটি সুপরিকল্পিত, তথ্য সমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা রসায়ণ, গণিত, জীববিদ্যা, ব্যবহারিক ইংরাজী ভাষা শিক্ষা এবং মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, স্নাতক শ্রেণির জন্য বিদেশ থেকে রসায়ন, অর্থনীতি পড়ানো হয়ে থাকে।

অনলাইন ক্লাসের বৈশিষ্ট্য সমূহ

ক) ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হয় বাংলা এবং ইংরাজী উভয় মাধ্যমেই। এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বা শিক্ষিকা উভয়েই আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। উচ্চশিক্ষার স্তরে পাঠদান করা হয় ইংরাজী মাধ্যমেই।

খ) তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তিতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর, ক্যামেরা, ডিজিটাল নোটপ্যাড, প্রোজেক্টর, অডিও সিস্টেম ও বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রভৃতির সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। এই প্রক্রিয়া শুধু কার্যকরী ও যুগোপযোগীই নয় পাশাপাশি আনন্দদায়ক ও ফলবতীও বটে।

গ) শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিদ্যালয়ে যে পরিবেশে পাঠলাভ করে নিঃসন্দেহে তার চেয়ে আরও উন্নত পরিবেশে বিবেকদিশা নেটওয়ার্কের ক্লাসগুলি সঞ্চালিত হয়।

ঘ) শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ভাবে লিখতে শেখে, বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিতে হবে, তাও তাদের এখানে শেখানো হয়ে থাকে।

ঙ) শিক্ষার্থীরা যতক্ষণ কোনো বিষয় যেতে না পারে ততক্ষণই তারা প্রশ্ন করা ও আলোচনার মাধ্যমে পরিষ্কার (Concept Building) করে নেবার সুযোগ পায়।

চ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ থেকেও শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ নিয়মিত ভাবে পাঠদান করে থাকেন এভং বলাবাহূল্য এই ক্লাসগুলি ছাত্রদের কাছে খুবই আকর্ষক হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

ছ) শিক্ষার্থীরা জাতে সহজে বিষয়ে প্রবেশ করতে পারে তার দিকে নজর দিয়েই ক্লাসগুলি পরিচালিত হয়ে থাকে।

গ্রামীণক্ষেত্রে ডিজিটাল জগতের বিভেদ দূরীকরণ (Breaking The Digital Divide in Rural Areas)

রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিবেকদিশা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দরিদ্র এবং সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সেবায় যুব সমাজকে সচেতন করার কাজও করা হয়ে থাকে।

ক) জ্ঞানরূপ অনুঘটক (Knowledge Catalyst)

বিবেকদিশা মনে করে, জ্ঞান হল এক শক্তিশালী অনুঘটক যা সমাজকে দ্রুত পরিবর্তিত করতে সমর্থ। সাম্প্রতিক তথ্যের সঙ্গে মানুষের পরিচিত তাদের জীবনধারাকে উন্নততর করে। ফলে তারা পরিবার, সমাজ ও জাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, শক্তিশালী করতে পারে। সর্বোপরি তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা ভৌগলিক সীমাকেও অতিক্রম করতে সক্ষম, এর দ্বারা সমাজের সকলকে উ‌ৎসাহিত ও সহযোগিতা করা সম্ভব। বিবেকদিশা জ্ঞানভান্ডার ও তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষকে সাবলম্বী করার ক্ষেত্রে নিরন্তর, নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

খ) ভারতে ক্রম বর্ধমান টেলি-ঘনত্ব (Increasing Teledensity in India)

ভারতের জনসংখ্যার ৭২% মানুষ গ্রামে বসবাস করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে শহরে টেলিঘনত্ব ১৪৫.৩৯% যেখানে গ্রামে টেলি-ঘনত্ব ৪৩.১৩%। টেলিকম বিভাগ গ্রামের সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে এই সুবিধা পৌঁছে দেবার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে গ্রাম ও শহরের এই টেলি-ঘনত্ব পার্থক্য কমিয়ে আনা যাবে।

বিবেকদিশা তার সীমিত সামর্থের মধ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষরাও টেলি ঘনত্বের সুবিধা লাভ করতে পারে। এখানে ব্রডব্যান্ড পরিষেবা স্থিতিশীল ৫১২ kbps গতিতে হলেও বিবেকদিশার অনলাইন পরিষেবা সম্ভবপর।

আন্তর্জাতিক স্তরের অধ্যাত্মপিপাসুদের জন্য ‘আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য’ বিষয়ক জ্ঞান চর্চার কর্মসূচী

মাতৃভূমি থেকে দূরবর্তী স্থানে বসবাসকারী ভক্ত মন্ডলীর অধ্যাত্ম পিপাসা মেটাতে বিবেকদিশার প্রয়াস উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত দ্বিভাষা ভিত্তিক ক্লাসে যোগ দেন সুদূর সংযুক্ত আরব আমীরশাহী (দুবাই, আবুধাবী, শারজা), আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী প্রভৃতি অঞ্চলে বসবাসকারী ভক্ত মন্ডলী। এই ক্লাসে যোগদানকারী এক ভক্তের আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়াঃ-

“শনিবারের বিকেল, পেনসিলভেনিয়ায় আমার বাড়ীতে বসে, বেলুড় মঠ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ..... প্রকৃতপক্ষে কিন্তু তা নয় ..... আমি এক মুহূর্তের মধ্যে আমার প্রিয় বই মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত বিষয়ক অনলাইন ক্লাসে সরাসরি যোগদান করতে পারি।”

প্রযুক্তি এভাবেই দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ভক্তমন্ডলীর কাছে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুধ্যান এবং সাধু সঙ্গের সুযোগ করে দিয়েছে। এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বর্তমানে রাজকোট থেকেও পতঞ্জলি যোগসূত্রের ইংরাজী ভাষায় ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক স্তরের এই ক্লাসে আলোচিত হচ্ছে।

বিষয়বস্তু প্রস্তুতিকরণ

ক) স্কুল ও কলেজ শিক্ষার ক্ষেত্রেঃ-

বিজ্ঞান, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং ব্যবহারিক ইংরাজী ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঠ্য বিষয়বস্তুর প্রস্তুতি কিভাবে হবে তা স্থির করা একটি প্রধান বিষয়। অল্প সময়ের মধ্যে এই বিষয়বস্তু তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু তথ্য-সংযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিষয়বস্তু প্রস্তুতিকরণ অনেক সহজে এবং দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব।

পাঠদানের মাধ্যম অনুযায়ী মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার সাহায্যে বিজ্ঞান বিষয়ে খুবই কার্যকরী পাঠদান সম্ভব। পড়ানোর সময়ে বিভিন্ন ভিডিওর অংশ দেখানো হয় যাতে বিজ্ঞানের পাঠ্য বিষয়ের শিক্ষার সাথে সাথে ইংরাজীতেও অনেকখানি স্বচ্ছন্দ হওয়ার সুযোগ লাভ করছে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা অন্যান্য বোর্ডের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম অনুযায়ী পড়ানোর বিষয়বস্তু স্থির করা হয়। সমস্ত ধরনের ছাত্রদের প্রতিই সযত্নে লক্ষ্য দেওয়া হয়, যাতে বিষয়ের প্রতি তাদের আগ্রহের উদ্রেক হয়, তার দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। তারা যাতে আরও শিখতে ও জানতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তার বিকাশে চেষ্টা করা হয় এবং এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়।

খ) জীবনের মূল্যবোধের বিকাশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক শিক্ষা সামগ্রী প্রস্তুতিকরণ

স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাচিন্তা নির্ভর হয়েই মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলি ও ইংরাজী ভাষা শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়। বিষয়বস্তু প্রস্তুত করণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে স্বামীজীর চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারনা বিশেষভাবে শিক্ষা সামগ্রীকে নতুন স্তরে উন্নীত করে। জীবন গঠনের ক্ষেত্রে স্বামীজীর দেখানো পথ অবলম্বনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উ‌ৎসাহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরের শিখন সহায়ক উপাদান, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বই ও বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে পাঠ পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান জিজ্ঞাসা বিকাশ ঘটানোর জন্য বিভিন্ন ছবি, পরীক্ষাগারের গবেষণার ভিডিও ইত্যাদি দ্বারা শিক্ষা সামগ্রীকে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গী সমৃদ্ধ বিজ্ঞান বই প্রকাশ

বিবেকদিশা অত্যন্ত সূক্ষভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলিকে পর্যালোচনা করেছে। যার ফলে একেবারে প্রাথমিক স্তরের কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। যেগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছিল। বিবেকদিশা বিশেষজ্ঞ মন্ডলীর সাহায্যে এই অসঙ্গতিগুলি দূর করার চেষ্টা করে চলেছে। ইতিপূর্বেই পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের অধিকর্তার সঙ্গে সাক্ষা‌ৎ করা হয়েছে, এবং একটি লিখিত অনুরোধ রাখা হয়েছে এই ত্রুটি সংশোধনের ব্যাপারে। এই বছরেই বিবেকদিশা মাধ্যমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিখন সহায়ক পুস্তক ‘বিবেকদিশা বিজ্ঞান কথা’ দ্বিতীয়ভাগ প্রকাশ করেছে।

জাতীয় সম্মেলনে গবেষণা পত্র প্রকাশ

‘Bridging the digital gap in Rural India:- VIVEKDISHA – A Novel Experience’ শীর্ষক একটি গবেষণা পত্র ২০১৩ সালে দিল্লি IIT-তে অনুষ্ঠিত তথ্য-সংযোগ বিষয়ক একটি জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপনা করা হয়েছে এবং তা Institute of Electrical and Electronics Engineers Xplore  -এর Digital Library কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কর্মসূচী

ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অসাম্য মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও বিবেকদিশা সচেষ্ট। রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়, বেলুড়মঠের বিবেকদিশা এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের গ্লোবাল হেলথ্‌ শেয়ার উদ্যোগ যৌথভাবে এক অভিনব প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার দ্বারা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা জাগানো এবং গবেষণা মূলক কাজ করা হবে ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে পুষ্টিগত বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা স্থিরীকরণ সম্ভব হবে। এছাড়াও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন ঋতুতে যে রোগগুলি হয় তার মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধ্যাপক প্রেরণ (Faculty exchange) কর্মসূচী

রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক গত ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। এটি ছিল বিবেকদিশা –GHS যৌথ উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্পের একটি অঙ্গ। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপকগণের সহায়তায় কৃষিক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে আমাদের অধ্যাপক এক নতুন দিক নির্দেশ লাভ করেছেন।

টেলিমেডিসিন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গ্রামে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞ চিকি‌ৎসক কিংবা চিকি‌ৎসাকেন্দ্র পাওয়া সম্ভব হয়না। এই সবক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তি ঘরে বসেই ডাক্তারের কাছে চিকি‌ৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ পেতে পারেন। তাঁর আত্মীয় পরিজনরাও চিকি‌ৎসকগণের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। বিবেকদিশা নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে টেলিমেডিসিনকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এর ফলে আগামী দিনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের আরও সুবিধা হবে।

 
Ramakrishna Mission Vivekananda University
Belur Math, Howrah, India
No part of the site should be reproduced in any form or by any means, electronically or otherwise, without prior written permission.
Powered by Softsignindia